কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ব্র্যাক


মার্চ ২৩, ২০২১: বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে ব্র্যাক।

সোমবার বিকেলে উখিয়ার কুতুপালং বালুখালী এলাকার রোহিঙ্গা শিবিরে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। যার ফলে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে হাজারো পরিবার। ঘটনার পর থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দমকল বাহিনী, উদ্ধারকারী দল এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবী দল কাজ করছে। এছাড়াও এই প্রক্রিয়ায় কক্সবাজারে অবস্থিত শরণার্থী, ত্রাণ এবং প্রত্যাবসন কমিশনকে (আরআরআরসি) সহায়তা করছে বিভিন্ন দাতা সংস্থা, মানবিক সংস্থা এবং উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

ইউএনএইচসিআর জানায়, অগ্নিকান্ডের পূর্বে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বাস করছিল ১, ২৬,৩৮১ মানুষ, যাদের প্রায় সবাই এখন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এবং উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মানবিক সহায়তা প্রদানে ব্র্যাকের কাছে আহবান জানিয়েছেন। এই সহায়তার মধ্যে নার্সের মাধ্যমে প্রদত্ত জরুরি মেডিক্যাল সেবা, অস্থায়ী আশ্রয় নির্মাণে তেরপল প্রদান এবং নারীদের স্বাস্থ্য এবং হাইজিন নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত উল্লেখযোগ্য।

ব্র্যাক-এর পক্ষ থেকে ঘটনার পরপরই জরুরি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে যারা সেফ শেল্টারে অবস্থানরত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে ব্যাসিক ফার্স্ট এইড সার্ভিস প্রদান করছে। এছাড়াও, ক্যাম্প ৮ই এবং ক্যাম্প ১৩ তে ব্র্যাক পরিচালিত প্রাইমারি স্বাস্থ্যসেবা সেন্টারগুলো পুরোপুরিভাবে সচল রাখার পাশাপাশি বালুখালী কাশেমিয়া হাই স্কুলে ১০-১২ সদস্যের মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছেন। ইতোমধ্যে ২৩৩ জন আহত রোগীকে প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে।

বালুখালি কাশেমিয়া হাই স্কুল মাঠে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোর মধ্যে ব্র্যাক প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে ১১,৯০০ ফর্টিফাইড বিস্কুট প্যাকেট (৫৯৫ কেজি) এবং ৮০০০ লিটার খাবার পানি বিতরণ করেছেন। এছাড়াও, ৫৫৬ জনকে দুপুর ও রাতের জন্য মোট ৮১৯ প্যাকেট রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি পানির প্রয়োজন মেটাতে ব্র্যাক-এর পক্ষ থেকে অক্সফামকে ৫৫০০ জেরিক্যান প্রদান করা হয়েছে এবং আরও ৮০০টি ক্যান বিতরণের জন্য মজুদ রাখা হয়েছে।

নিরাপদ শেল্টার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত ৯৭৭টি তেরপল বিতরণ করা হয়েছে ও জরুরি আশ্রয় প্রয়োজন মেটাতে আরও ১০০০ টি তেরপল মজুদ রাখা হয়েছে।

ব্র্যাকের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির পরিচালক সাজেদুল হাসান বলেন, ‘এটি একটি ভয়াবহ দুর্যোগ। আমরা আশা করছি, সরকারের পাশাপাশি ব্র্যাকসহ অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা পরিবারগুলো দ্রুততম সময়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। ব্র্যাক ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেছে। আহতদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় বেশকিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।’

ক্যাম্প ৮ই, ৮ডব্লিউ, ৫ এবং ৬ এ আশ্রয় নেয়া নারী এবং বালিকাদের সহায়তা প্রদানের নিমিত্তে প্রিভেন্টিং জেন্ডার বেজড ভায়োলেন্স (লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতারোধ) টিমের পক্ষ থেকে ৪টি সাব-সেক্টর ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু পরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া নারী এবং বালিকাদের জরুরি প্রয়োজনে ১০০০টি জরুরি ডিগনিটি কিট প্রস্তুত রাখা আছে।

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা শিশু এবং কিশোর-কিশোরিদের শনাক্তকরণে এবং সহায়তায় শিশু সুরক্ষা টিমের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত রয়েছে। এখন পর্যন্ত যে সকল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা শিশু শনাক্ত হয়েছে তাদের বিস্কুট প্রদান করা হয়েছে এবং তাদের সেফ শেল্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা শিশু এবং কিশোর-কিশোরিদের সহায়তা প্রদানে বেশকজন সেন্টার ম্যানেজার বর্তমানে বালুখালীর আশপাশে অবস্থান করছেন। এসকল শিশুদের হাই এনার্জি বিস্কুট প্রদান করা হচ্ছে।

এই দুর্যোগ নিরসনে এবং সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এগিয়ে আসা সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান, অংশীদার সংস্থাসমূহ, এবং ফ্রন্টলাইনারদেরকে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা