বাংলাদেশে এনজিও এবং নাগরিক সংগঠনের নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক-বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে এনজিওদের অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে নাগরিক সংগঠনগুলো ভূমিকা পালন করেছে। বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সংগঠনগুলোর একটি বৃহত্তর জোট গঠন করা অত্যন্ত ইতিবাচক। এখন ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষা দূরীকরণে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এই জোটের বিশ্বাসযোগ্য গবেষণা প্রয়োজন। তাহলে অ্যাডভোকেসি সফল হবে।‘ বাংলাদেশের সিএসওগুলো (সিভিল সোসাইটি অরগানাইজেশান)-র একটি বৃহত্তর জোট গঠন উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ২০৩০ সালের এসডিজি অর্জনের জন্য এই জোটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এই চ্যালেঞ্জগুলির প্রতি আরও মনোযোগী হওয়া উচিত। পশ্চাৎপদ, অবহেলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

আজ মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) সকালের এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম ও অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।

ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে নবগঠিত এই বৃহত্তর জোটের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলি সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়। কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন করতে প্রাথমিকভাবে দুই বছর এর সচিবালয়ের দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত হয়েছে ব্র্যাক।

এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সবাই মিলে ভূমিকা পালন করতে হবে। সমন্বিতভাবে কাজ করলে দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এনজিও ব্যুরো এ ব্যাপারে এই জোটকে সর্বতোভাবে সহায়তা করবে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে মেলবন্ধন গড়ে তোলা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও প্রগতিমুখী সমাজ গঠনে বেসরকারি সকল সংস্থার জোটবদ্ধ হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ। সেবাদানকারী সংস্থাগুলো বাংলাদেশের একটি বড় শক্তি‘। এই শক্তি একযোগে কাজ করলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতার মধ্য থেকে কতটা স্বাধীনভাবে সংস্থাগুলো কাজ করতে পারে-সে ব্যাপারে সরকারকে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে।

সারাদেশের ৫ শতাধিক এনজিও এবং সিভিল সোসাইটি সংস্থার নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষা-বিষয়ক জোট ক্যাম্পের চেয়ারপারসন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী এবং সঞ্চালনা করেন ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কেএম মোরশেদ।

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়: এনজিওগুলি বাংলাদেশের বিকাশ এবং উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে উন্নয়ন-বিশ্বে অন্যদের জন্য একটি শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তাৎপর্যযপূর্ণ সাফল্য সত্ত্বেও গত দুই দশকে সামগ্রিক এনজিও খাতের সমন্বয় ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসাবে রয়ে গেছে। বেসরকারি সংস্থা এবং সিএসও-র একীভূত জাতীয় সমন্বয় ও প্রতিনিধিত্ব কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়ে ওঠে যখন সরকার বিদেশি অনুদান (স্বেচ্ছাসেবী পরিষেবাদি) নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে এবং এনজিওর কাছ থেকে মতামত পাওয়ার জন্য ২০১২ সালের জানুয়ারিতে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে।

একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্মের অনুপস্থিতিতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার বিষয়টি নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। এই সমস্যা সমাধানে এবং বর্তমান কোভিড-১৯ মহামারিকালে বেসরকারি সংস্থাগুলির জাতীয় সঙ্কটে ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে একটি যৌথ ও সমন্বিত কাঠামোরও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এনজিও সেক্টর ও জাতির সেবা প্রদানের স্বার্থে নিজেদের অবদান ও ভূমিকাকে সামনে তুলে ধরতে দেশের সকল এনজিও ও নেটওয়ার্কগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক মঞ্চে আসা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্র্যাকের সাবেক চেয়ারপারসন প্রয়াত স্যার ফজলে হাসান আবেদ এ ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি জীবনের শেষ দিনগুলিতে এ ব্যাপারে অনেক এনজিও নেতার সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছিলেন। প্রয়াত স্যার ফজলে হাসান আবেদের আকাঙ্ক্ষার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ব্র্যাক এই উদ্যোগটি এগিয়ে নিতে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু করে। পরবর্তীকালে আলোচনাটিকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন এনজিও নেটওয়ার্ক এবং সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠকের আয়োজন করে।

প্রস্তাবিত সিএসও জোটের উদ্দেশ্য হচ্ছে- মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, জলবায়ু পরিবর্তন, কিংবা কোভিড-১৯ এ স্বাস্থ্যখাতে চ্যালেঞ্জের মতো সমস্যাগুলোর সমাধানে সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করা। সিএসওভুক্ত সদস্যদের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেরা সমৃদ্ধ হওয়া। পাশাপাশি সম্মিলিতভাবে দেশের উন্নয়নের মাধ্যমে স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করাও এর লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত, সিপিডি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, বেসরকারি অধিকার সংস্থা নিজেরা করি-র সমন্বয়কারী খুশি কবীর, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনরে নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভী রাখসান, অ্যাকশান এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, আইএনজিও ফোরামের সফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিবন্ধী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনসুর আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

বক্তারা দেশের সার্বিক উন্নয়নের অভিযাত্রায় মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং এসডিজি অর্জনে সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের ভূমিকাকে আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা