কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহের জন্য অর্ধশত বুথ স্থাপনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সহায়তা দিচ্ছে ব্র্যাক

করোনা ভাইরাস সংক্রমণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নমুনা পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সহায়তা করতে বুথ স্থাপন করছে ব্র্যাক। আগামী সপ্তাহের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধশত নমুনা সংগ্রহ বুথ বসে যাবে। সারা দেশে এভাবে ১০০টি বুথ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্র্যাক বর্তমানে ল্যাব টেকনিশিয়ান নিয়োগ, বুথ স্থাপন ও নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। তাদের সহযোগিতায় ব্র্যাক টেকনোলজিস্টদের প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। নমুনা সংগ্রহের কিটও দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই বিষয়ে খুব শীঘ্রই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হবে।

হাসপাতালে স্থাপিত বুথগুলো চলবে সেখানকার কর্মী ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই। অন্য বুথগুলোয় দায়িত্বপালন করবেন ব্র্যাকের দুজন করে টেকনোলজিস্ট। এর একেকটি বুথে সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কার্যক্রম চলবে। প্রতিদিন ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা যাবে। যাদের করোনা উপসর্গ যেমন-জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট রয়েছে তারা নমুনা দিতে পারবেন। তার আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত ফরমে নাম-ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নমুনা সংগ্রহের পর তা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত ল্যাবে। পরীক্ষার ফলাফল যার যার ফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। প্রথমত জাতীয় নির্দেশনা অনুযায়ী প্যারামেডিকগণ সন্দেহভাজন রোগীদের বাছাই করবেন। দ্বিতীয়ত মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল অথবা এদের আশপাশে স্থাপিত নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রে রেফার করা রোগীদের নমুনা নেওয়া হবে।

নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে বয়স্ক মানুষ, যাদের ডায়াবেটিস রক্তচাপের মতো অনিরাময়যোগ্য রোগ আছে তারা, ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী বা যারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজ করেন তারা অথবা যারা অফিসের পরিবেশে কাছাকাছি বসে কাজ করেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক মোর্শেদা চৌধুরী বলেন, “স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ব্র্যাক প্রাথমিকভাবে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বেশি সংক্রমিত ১৯টি এলাকায় ১০০ বুথ তৈরি করবে। এর মধ্যে অর্ধেকই স্থাপন করা হচ্ছে ঢাকায়। প্রাথমিকভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাইলট প্রকল্প হিসেবে বুথ চালু করি আমরা। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ এবং নারায়ণগঞ্জে কয়েকটি বুথ বসানো হয় । ঢাকার দুই মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে বুথ বসানোর জন্য আরো কিছু স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, গত সোমবার (১১ই মে) পর্যন্ত ঢাকার ১৪টি স্থানে ১৭টি বুথ স্থাপিত হয়েছে। এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বাকিগুলো স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

ঢাকার বুথগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ, শেখ হাসিনা বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ। এ ছাড়াও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের অধীনে নয়া পল্টন, বাসাবো, কামরাঙ্গীর চর, নয়া বাজার, যাত্রাবাড়ি এবং লালবাগ এলাকায় বুথের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে। এর মধ্যে বস্তি সংলগ্ন নিম্ন আয়ের মানুষদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও উত্তরা, মগ বাজার, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরখান, দক্ষিণখান এবং বাউনিয়া এলাকাসহ আরো কিছু সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বুথ স্থাপন করা হবে।

এখনও এই খাতে ব্র্যাক নতুন কোনো তহবিল পায়নি। যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক সহায়তা বিভাগ ডিএফআইডি থেকে প্রাপ্ত তহবিলের কিছু অংশ এই খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে।

গত সোমবার (১১ই মে) গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ কার্যালয়ে স্থাপিত একটি বুথ উদ্বোধন করেন মাননীয় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। শীঘ্রই জাতীয় প্রেস ক্লাবেও আরেকটি বুথ স্থাপন করা হবে।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা