কোভিড-১৯ সঙ্কটে মানসিক উদ্বেগে সেবা দিচ্ছে 'মনের যত্ন মোবাইলে'

কোভিড-১৯ মহামারিতে নাগরিকদের জরুরি মানসিক সেবা দিতে ব্র্যাক, সাইকোলজিক্যাল হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস ক্লিনিক (পিএইচডব্লিউসি) এবং মানসিক সহায়তা হেল্পলাইন কান পেতে রই একটি টেলিকাউন্সেলিং প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। ‘মনের যত্ন মোবাইলে’ নামের এই প্ল্যাটফর্মে কোভিড-১৯-এর কারণে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা ও হতাশায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবা দেওয়া হবে।

আজ সোমবার (২০শে এপ্রিল) এই প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হয়। উদ্যোক্তারা জানান, দেশব্যাপী এই সেবা চলবে। নভেল করোনাভাইরাসজনিত মহামারীর কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত যে কেউ এই সেবা নিতে পারবেন। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ০১৭০৯-৮১৭১৭৯ হটলাইন নম্বরে টেলিফোন করলেই সরাসরি বিশেষজ্ঞরা কথা বলবেন এবং প্রয়োজনীয় মতামত ও পরামর্শ দেবেন।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইরাম মারিয়াম বলেন, ‘কোভিড-১৯-এর সংকটকালে যাঁরা মানসিক যাতনার মুখোমুখি হচ্ছেন তাঁদের সেবা দিতেই আমাদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা। লকডাউন, অনেকদিন ঘরবন্দি থাকা বা সামাজিক দূরত্বের নিয়মকানুন মানতে গিয়ে আমাদের মধ্যে অনেকেরই মানসিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই আবার চাকরি বা উপার্জন হারানোর দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত হচ্ছেন। ‘মনের যত্ন মোবাইলে’-এর প্ল্যাটফর্ম তাদের মানসিকভাবে উজ্জীবিত করে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।’

উদ্যোক্তারা বলেন, ‘সারা বিশ্বেই চলমান মহামারীতে যারা হাসপাতাল বা সেবাকেন্দ্রে গিয়ে মাানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারছেন না, বিশেষজ্ঞরা তাদের জন্য টেলিফোনের মাধ্যমেই স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিচ্ছেন। আমাদের পেশাদার ও আস্থাভাজন টেলিকাউন্সেলরবৃন্দ সরাসরি ফোন রিসিভ করবেন। তাঁদের সহানুভূতিশীল আচরণ, প্রাণবন্ত আলোচনা এবং গোপনীয়তা রক্ষার অঙ্গীকারের দরুন সবাই নিঃসংকোচে কথা বলতে পারবেন। তাঁরা বিদ্যমান অসুবিধা ও চাপ কাটিয়ে উঠার জন্য দরকারি পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ব্যয়াম বা অনুশীলনের দিক্নির্দেশনাও দেবেন।’

মোবাইল ফোনে এই সহায়তা সেবা দেওয়ার জন্য থাকছেন ২৮ জন মনোবিদ (সাইকোলজিস্ট) ও পরামর্শদাতা (কাউন্সেলর)। এঁদের প্রত্যেকেই সাধারণ মনোবিজ্ঞান, কাউন্সেলিং সাইকোলজি এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

উদ্যোক্তারা জানান, নারী বা পুরুষ হোক, তাঁদের আর্থসামাজিক অবস্থান যা-ই হোক না কেন, এই প্ল্যাটফর্মে ফোন দেওয়ার পর তিনি সামান্য হলেও চাপ কাটিয়ে উঠে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হতে পারবেন। এখানে ফোনদাতাদের কারোর ইতিমধ্যে কোভিড-১৯-এর লক্ষণ প্রকাশ পেলে কিংবা অধিকতর জটিল মানসিক চাপ থাকলে তাঁকে সরকার অনুমোদিত অন্য সেবাদান প্রক্রিয়ায় রেফার করা হবে।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা