হালকা প্রকৌশল বাণিজ্যমেলায় প্রায় ২ কোটি টাকার কার্যাদেশ পেলেন উদ্যোক্তারা

দেশের যুবশক্তির কার্যকর কর্মসংস্থানের জন্য হালকা প্রকৌশলকে খাতকে উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বাজারচাহিদাকে সামনে রেখে তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের পথ সুগম করা, খাতটির প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য সরকারি-বেসরকারিসহ সকল অংশীদারের সমন্বিত সহযোগিতা বাড়ানো এবং এই খাতের বৈচিত্র্যকরণ নিশ্চিত করা। আজ মঙ্গলবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘হালকা প্রকৌশল শিল্পপণ্য প্রদর্শনী ২০২০’ শীর্ষক দুই দিন ব্যাপী মেলার শেষদিনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞবৃন্দ এই মতামত ব্যক্ত করেন।

ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত ‘প্রোপুওর গ্রোথ অব রুরাল এন্টারপ্রাইজেস থ্রু সাসটেইনেবল স্কিলস ডেভেলাপমেন্ট’ সংক্ষেপে ‘প্রোগ্রেস’ প্রকল্পের পক্ষ থেকে মেলাটি আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, দুই দিনের মেলায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা এক কোটি ৯৭ লাখ টাকার কার্যাদেশ পেয়েছেন। ৪১ জেলা থেকে ৫৮টি ব্যবসা উদ্যোগ হালকা প্রকৌশল বাণিজ্যমেলায় অংশ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান গতকাল সোমবার মেলাটির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে তিনি ব্র্যাকের নারীবান্ধব কর্মকৌশলের প্রশংসা করেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে হালকা প্রকৌশল খাতের এগিয়ে যাওয়া পেছনে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সালমান এফ রহমান আরো বলেন, “রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা আমাদের অর্থনীতির বড় দুর্বলতা যা কাটিয়ে উঠতে আমাদের রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনতে হবে। এক্ষেত্রে হালকা প্রকৌশল খাত নিয়ামক ভূমিকা রাখতে পারে।”

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল হালিম আজ মঙ্গলবার আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তরুণ-যুব শক্তিকে উৎপাদনশীল খাতে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হলে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

“অর্থায়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এবং এক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে আপনারা আমাদের লিখিতভাবে জানান। আমরা উদ্যোক্তাদের সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করব। আমি ব্র্যাককে একই প্রকল্পের আওতায় ৫০০০-এর ওপর উদ্যোক্তা নিয়ে কাজ করার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। আমি তাঁদের এ কাজ চালিয়ে যেতে আহ্বান জানাব। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)ও তাঁদের তথ্যভাণ্ডারে এই উদ্যোক্তাদের অন্তর্ভুক্ত করবেন বলে আশা রাখি।”

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এসডিজি বিষয়ক অতিরিক্ত সচিব মোকাম্মেল হোসেন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, তরুণরা উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে নিজেরাই অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান করতে পারবেন যা অর্থনীতিকে বলিষ্ঠ করবে।

“দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীরা পিছিয়ে থাকলে দেশ পিছিয়ে থাকবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ব্র্যাক তাদের সমতাভিত্তিক জেন্ডার নীতির মাধ্যমে নারীদের কার্যকর দক্ষতা উন্নয়ন ঘটাচ্ছে এবং তাঁদের জন্য মূলধারার কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানেও তাদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়,” তিনি আরো বলেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ প্রকৌশল শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমাদের সমিতি হালকা প্রকৌশল খাতের উন্নয়নের জন্য পাঁচটি অগ্রাধিকারকে চিহ্নিত করেছে যেগুলো হচ্ছে, অর্থায়নের পথ সুগম করা, উন্নত প্রযুক্তি, টেকসই প্রশিক্ষণ, নীতিগত সহযোগিতা এবং পরিকল্পিত শিল্পএলাকা।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক লীলা রশিদ তাঁর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হালকা প্রকৌশল খাতের উন্নয়নে অর্থায়নের কার্যকর পদ্ধতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “খাতটির গুরুত্ব বিবেচনা করেই দেশের ব্যাংকগুলো তাদের ঋণসুবিধার ২১ শতাংশ গত বছর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে প্রদান করেছে।”

মেলার শেষদিনের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আফতাব উদ্দীন আহমেদ।

প্রোগ্রেস প্রকল্পের একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রকল্পটিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের উৎপাদনশীলতা ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫০০ জন স্বউদ্যোগ শুরুর প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা পেয়েছেন। এর মধ্যে ২২৩ জন নারী।

৯৮৬৫ তরুণ শিক্ষানবিশিভিত্তিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন যাদের ৯৮ শতাংশের বেশি চাকরিতে নিযুক্ত হয়েছেন। ৫১৮২ হালকা প্রকৌশল ওয়ার্কশপ মালিক কারিগরি উন্নয়নের প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ৫২৮৯ জন মালিক নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এছাড়া ৭০০ বাজার কমিটিও জেন্ডারবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর প্রশিক্ষণ পেয়েছে।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা