কার্যকর অংশীদারত্ব, অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতা হালকা প্রকৌশল খাতকে আরো এগিয়ে নেবে

৪১ জেলা থেকে ৫৮টি ব্যবসা উদ্যোগ হালকা প্রকৌশল বাণিজ্যমেলায় অংশ নিচ্ছে।

দেশের হালকা প্রকৌশল খাতকে এগিয়ে নিতে হলে এর বৈচিত্র্যকরণ ঘটাতে হবে। এজন্য প্রয়োজন কার্যকর সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা, কারিগরি ও ব্যবসায়িক তথ্যপ্রবাহ, নতুন ও টেকসই প্রযুক্তি, ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়া উদ্ভাবন। আর এজন্য প্রয়োজন শিল্প-উদ্যোগগুলোর সামর্থ্য উন্নয়ন, গবেষণা ও উন্নয়নের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং এই খাতের বিভিন্ন সমস্যা দূরীকরণ।

আজ সোমবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘হালকা প্রকৌশল শিল্পপণ্য প্রদর্শনী ২০২০’ শীর্ষক দুই দিন ব্যাপী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞবৃন্দ এই মতামত ব্যক্ত করেন। ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত ‘প্রোপুওর গ্রোথ অব রুরাল এন্টারপ্রাইজেস থ্রু সাসটেইনেবল স্কিলস ডেভেলাপমেন্ট’ সংক্ষেপে ‘প্রোগ্রেস’ প্রকল্পের পক্ষ থেকে মেলাটি আয়োজন করা হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়িত তিন বছর মেয়াদি প্রোগ্রেস প্রকল্পটি দেশের হালকা প্রকৌশল খাতভুক্ত ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প উদ্যোগগুলোকে গতিশীল ও প্রতিযোগিতমূলক করার লক্ষ্যে ২০১৭ সালে কাজ শুরু করে।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ব্র্যাকের নারীবান্ধব কর্মকৌশলের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশে হালকা প্রকৌশল খাতের এগিয়ে যাওয়া পেছনে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

“রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা আমাদের অর্থনীতির বড় দুর্বলতা যা কাটিয়ে উঠতে আমাদের রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনতে হবে। এক্ষেত্রে হালকা প্রকৌশল খাত নিয়ামক ভূমিকা রাখতে পারে,” তিনি আরো বলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের খাদ্য-পুষ্টি নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ম্যানফ্রেড ফার্নহোলজ্ সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই খাতে সহায়তা বৃদ্ধিতে আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ প্রকৌশল শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক স্থানীয় পর্যায়ে মূলধনি যন্ত্রপাতি নির্মাণে সরকারি নীতি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান করেন। তিনি বলেন, “বিদেশ থেকে মূলধনি যন্ত্র আমদানি করতে শুধুমাত্র ১ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। এক্ষেত্রে আমদানিকারককে কোনো ভ্যাট দিতে হয় না। অথচ এক যন্ত্র স্থানীয়ভাবে তৈরির জন্য এ বছরের ১লা জুলাই থেকে আমাদের ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদান করতে হবে বলে আইন জারি করা হয়েছে।” তিনি এই ভ্যাট মওকুফের আহ্বান জানান।

আলোচনা সভার সভাপতির বক্তব্যে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আমরা ব্র্যাকের ২০২১-২০২৫ ব্যাপী কর্মকৌশলে দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছি।”

দক্ষতা উন্নয়ন খাতকে কার্যকরভাবে সফল করে তুলতে হলে উচ্চশিক্ষার প্রতি প্রচলিত মনোভাবকে পরিবর্তন করতে হবে এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হবে, তিনি আরো বলেন।

বর্তমানে দেশের বিশ^বিদ্যালয় থেকে পাশ করা ৪৭ শতাংশ গ্র্যাজুয়েটই বেকার। এই সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়নমূলক শিক্ষাকে সমসাময়িক ও ভবিষ্যতের বাজারভিত্তিক প্রয়োজনের নিরিখে ঢেলে সাজাতে হবে। বাংলাদেশ সরকারকে সাধুবাদ জানিয়ে আসিফ সালেহ্ আরো বলেন, “মুজিব শতবর্ষে হালকা প্রকৌশল খাতকে বিশেষ জোর দেওয়ার মাধ্যমে সরকার সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তটিই গ্রহণ করেছে।”

প্রোগ্রেস প্রকল্পের একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রকল্পটিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের উৎপাদনশীলতা ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫০০ জন স্বউদ্যোগ শুরুর প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা পেয়েছেন। এর মধ্যে ২২৩ জন নারী।

৯৮৬৫ তরুণ শিক্ষানবিশিভিত্তিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন যাদের ৯৮ শতাংশের বেশি চাকরিতে নিযুক্ত হয়েছেন। ৫১৮২ হালকা প্রকৌশল ওয়ার্কশপ মালিক কারিগরি উন্নয়নের প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ৫২৮৯ জন মালিক নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এছাড়া ৭০০ বাজার কমিটিও জেন্ডারবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর প্রশিক্ষণ পেয়েছে।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা