রোহিঙ্গা ও স্থানীয় শিশুদের শিক্ষায় ব্র্যাককে ১৭ কোটি টাকা দেবে জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশন

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষাবিস্তারে ব্র্যাককে ১৭ কোটি টাকারও বেশি (প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার) সহায়তা দিচ্ছে জাপানভিত্তিক অলাভজনক ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘দি নিপ্পন ফাউন্ডেশন’। এই তহবিল দ্বারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ইস্পাত কাঠামোর ৫০টি দোতলা শিক্ষণকেন্দ্র (লার্নিং সেন্টার) তৈরি করা হবে। কেন্দ্রগুলোতে ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৮ হাজার রোহিঙ্গাশিশু শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ৫ থেকে ৬ বছর বয়সী ৩ হাজার শিশুর জন্য ১০০টি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

এই উপলক্ষ্যে আজ বুধবার (১১ই ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন দি নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া ও ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক ড. সফিকুল ইসলামসহ দুই প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ।

দি নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া বলেন, ‘স্থানীয় শিশুদের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শিশুরাও যেন তাদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারে সেকারণেই আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা আশা করি রোহিঙ্গা শিশুরা নিজ দেশে ফিরে গিয়েও শিক্ষাগ্রহণ অব্যাহত রাখবে।’

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৫৫ শতাংশই শিশু। তাই এদের শিক্ষা কার্যক্রমে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’ তাদের ভাষাতেই পরিচালিত এই শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করতে সনদ প্রদানের ব্যবস্থা রাখার উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠিত ৭৫৯ টি শিক্ষাকেন্দ্রে ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৬১ হাজারেরও বেশি শিশু ভর্তি হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, অক্ষর ও সংখ্যাজ্ঞান, জীবনরক্ষার প্রয়োজনীয় তথ্য, মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা ও জীবনদক্ষতার বিকাশে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আসার শুরু থেকেই ক্যাম্পগুলোতে শিক্ষাসেবায় সরকারের কার্যক্রমে বৃহত্তম অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে ব্র্যাক। ২০১৭ সাল থেকে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য ১ম থেকে ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষা উপকরণ তৈরি ও উন্নয়নে ব্র্যাক কাজ করছে। এ পর্যন্ত ব্র্যাকের শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ভর্তি হওয়া ৬১ হাজার শিশুর ৫১ শতাংশই মেয়ে। মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭২২ জন প্রতিবন্ধী শিশু। শিক্ষাকেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের মধ্যে ৫৭ শতাংশই নারী।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা