ব্র্যাক-শেভরনের প্রকল্প জীবিকা-র ২য় পর্যায় উদ্বোধন

ব্র্যাক ও শেভরনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্প ‘জীবিকা’র দ্বিতীয় মেয়াদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আজ বৃহস্পতিবার (৪ঠা জুলাই, ২০১৯) ঢাকায় ব্র্যাক সেন্টার ইন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় মেয়াদে ২০২২ সাল নাগাদ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবিকা গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন টেকসইকরণ এবং সমবায়ের সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার। আরও উপস্থিত ছিলেন শেভরন বাংলাদেশ-এর করপোরেট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক ইসমাইল চৌধুরী, শেভরন-এর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্সের জেনারেল ম্যানেজার অ্যালেক্সান্ডার ইয়েলেন্ড, ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন, জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি এবং সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালক আন্না মিন্জ। অনুষ্ঠানে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন ব্র্যাকের অপারেশন এবং স্ট্রাটেজিক ইনিশিয়েটিভস-এর উর্ধ্বতন পরিচালক মতিউল ইসলাম নওশাদ।

প্রকল্পের উদ্বোধনী পর্বে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিগণ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জীবিকা প্রকল্পের অংশগ্রহণকারী, ব্র্যাক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জীবিকা প্রকল্পের প্রথম মেয়াদের ১১০ টি গ্রাম উন্নয়ন সংগঠনের সমবায় অধিদপ্তর এর অধীনে নিবন্ধনলাভ সহ অন্যান্য সফলতা এবং দ্বিতীয় মেয়াদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য এবং কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।

শেভরন পরিচালিত গ্যাসক্ষেত্রের আশে পাশে বসবাসরত পিছিয়ে পড়া জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্র্যাক ও শেভরনের এই যৌথ উদ্যোগকে অভিনন্দন জানান অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার। তিনি বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে আমরা বরাবরই এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’

জীবিকা প্রকল্পের ১১০টি গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন (ভিডিও) সমবায় অধিদপ্তরের অধীনে নিবন্ধিত হওয়ায় শেভরন-এর পরিচালক ইসমাইল চৌধুরী সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবনমান উন্নয়নে করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি-র (সিএসআর) অধীনে কাজ করছে শেভরন। জীবিকা প্রকল্পের প্রথম মেয়াদ একটি সফল উদাহরণ যেখানে সিলেট, মৌলভিবাজার এবং হবিগঞ্জ জেলার গ্রাম উন্নয়ন সংগঠনের সদস্যদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।

অ্যালেক্সান্ডার ইয়েলেন্ড বাংলাদেশ সরকারের সমবায় অধিদপ্তর ও তার অধীনস্থ সকল বিভাগ এবং উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং জীবিকা প্রকল্পের সদস্যদের সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং স্থায়ীত্বশীলতা আনয়নে সহযোগিতা করায় ধন্যবাদ জানান। জীবিকা প্রকল্পের অংশগ্রহণকারীদের সুশাসন বিষয়ক দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণত শেভরন সামাজিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং শিক্ষা প্রসারে কাজ করে থাকে। যা ইউএন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে সহযোগিতা করে।

ব্র্যাকের পরিচালক আন্না মিন্জ তার বক্তব্যে জীবিকা প্রকল্পের সার্বিক অর্জনের জন্য ১১০টি ভিডিও-র অংশগ্রহণকারীদের সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন ভিডিও সদস্যদের নিরলস পরিশ্রমই আজকের এই সাফল্য বয়ে এনেছে।

সভাপ্রধান মতিউল ইসলাম নওশাদ জানান, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র জনগণের উন্নয়নে সচেতনতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জীবিকা ও অন্যান্য প্রকল্পের সমন্বয়ে গঠিত ব্র্যাক সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি (আইডিপি) ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ সরকার ও শেভরন কে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এভাবেই অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের তৃণমূলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এগিয়ে আসবে।

২০১৫ সালের অক্টোবরে বৃহত্তর সিলেটের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর স্বাবলম্বিতা অর্জন এবং আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে জীবিকা প্রকল্পটির সূচনা হয়। গ্রাম উন্নয়ন সংগঠনের সদস্যদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে অফিসঘর গড়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র এবং তিন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার প্রাথমিক মূলধন হস্তান্তর করা হয়। এই মূলধন দিয়ে তারা সদস্যদের আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকে।

উল্লেখ্য, জীবিকার প্রথম পর্যায়ে নিবন্ধিত ১১০টি সংগঠন ৫৮% নারী প্রতিনিধিত্বসহ নির্বাহী কমিটি গঠন করে এবং ২০১৫ সালে প্রকল্প শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২০,০০০ লোক উপকৃত হয়।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা