যক্ষ্মা নির্মূলে নির্বাচনী ইশতেহারে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দাবি

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হলে ২০৩০ সাল নাগাদ যক্ষ্মারোগে মৃত্যুর হার ৯০ শতাংশ এবং নতুনভাবে সনাক্তকৃত যক্ষ্মারোগীর হার ৮০ শতাংশ কমিয়ে আনতে হবে। আর তা করতে হলে যক্ষ্মারোগ সনাক্তকরণ ও রোগ প্রতিরোধকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি যক্ষ্মারোগ নির্মূলে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বিষয়টি নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

আজ সোমবার (১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে যক্ষ্মারোগ সনাক্তকরণ ও রোগ প্রতিরোধ নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল কর্মশালায় বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম ও ব্র্যাক যৌথভাবে এই গোলটেবিল কর্মশালার আয়োজন করে।

উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. সামিউল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বাংলাদেশের গ্লোবাল ফান্ড ও এমডিআর-টিবির উপদেষ্টা ডা. মো. আব্দুল হামিদ সেলিম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক-এর কমিউনিকেবল ডিজিজ প্রোগ্রাম-এর সহযোগী পরিচালক ডা. মাহফুজা রিফাত।

বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম হাসিব-এর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের কমিউনিকেবল ডিজিজেস সার্ভাইল্যান্সের মেডিকেল অফিসার ডা, মিয়া সেপাল নাগন, ব্র্যাকের কমিউনিকেবল ডিজিজেস অ্যান্ড ওয়াশ কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. আকরামুল ইসলাম, ডেমিয়েন ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. অংকাই জাই মং,বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম-এর সভাপতি তৌফিক মারুফসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞগণ ও সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ।

অধ্যাপক ডা. মো. সামিউল ইসলাম বলেন, আমাদের এখন মূল লক্ষ্য যক্ষ্মারোগের সনাক্তকরণ বাড়ানো। এর পাশাপাশি এ রোগ নিয়ন্ত্রণে আমরা এই রোগ সনাক্তকরণের জন্য আধুনিক পদ্ধতির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। তিনি বলেন, এটা বাস্তব সত্য যে যক্ষ্মাবিষয়ক কর্মকান্ডে আর্থিক সহায়তা কমে গেলে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব আসতে পারে। তবে যেহেতু বাংলাদেশ এখনও এই রোগে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ, তাই এটা নিয়ন্ত্রণে সরকার বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। আমি আশা করছি গ্লোবাল ফান্ডসহ সংশ্লিষ্ট দাতা সংস্থাগুলো এ সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

ড. মো. আকরামুল ইসলাম বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে ২০৩০ সাল নাগাদ যক্ষ্মারোগের মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমিয়ে আনতে হবে। তাই এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার থাকা উচিত।

তিনি যক্ষ্মারোগ নির্মূলে সঠিক বার্তা পৌঁছানোর মাধ্যমে কমিউিনিট পর্যায়ে আরও বেশি কাজ করা, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জনবল বাড়ানো, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকে উন্নত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়, গ্রামের তুলনায় শহরে যক্ষ্মারোগের ঝুঁকি বেশী। গ্রামে যেখানে নতুন-পুরাতন সমষ্টিগতভাবে যক্ষ্মারোগী প্রতি লাখে ২৭০ জন, সেখানে শহরে প্রতি লাখে ৩১৬ জন সনাক্ত হচ্ছে।

কর্মশালায় বক্তারা বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছে: যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে আরও মনোযোগী হওয়া, ওষুধের মানের দিকে গুরুত্ব দেওয়া, নগর যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ, শিশু যক্ষ্মা সনাক্তকরণে অধিক গুরুত্ব দেওয়া, যক্ষ্মাবিষয়ক সচেতনতার অংশ হিসেবে গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করা ইত্যাদি।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা