কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য প্রথম দোতলা শিক্ষাকেন্দ্র চালু করল ব্র্যাক

দোতলা বাাড়িটির ভিত মাটি থেকে দুই ফুট উঁচু, তাই বৃষ্টি হলে পানি জমার ভয় নেই। কাঠামো তৈরি করা হয়েছে বাঁশ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে, তাই এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। রোহিঙ্গাদের ঐতিহ্যবাহী বাড়ির আদলে ছাদ ও দেয়ালের নকশা করা হয়েছে এমনভাবে যাতে সাইক্লোনের সময়ও বাতাসের চাপ সামলাতে পারে। আর এই ভবনেই কাল থেকে শিক্ষাগ্রহণ করবে ৮০ জন করে রোহিঙ্গা শিশু।

বুধবার কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে ৪ নং ক্যাম্পের বর্ধিতাংশে রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য দোতলা এই শিক্ষাকেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম, এনডিসি। আরআরআরসি-র সহায়তা, নির্দেশনা ও অনুমোদনক্রমে এবং জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে এই শিক্ষাকেন্দ্রটি স্থাপন করেছে ব্র্যাক। এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নেসার আহমেদ, জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর কক্সবাজার উপ কার্যালয়ের হেড অফ অপারেশন বার্নাদেত কাস্টেল-হলিংসওয়ার্থ, ইউনিসেফের শিক্ষা বিষয়ক প্রধান পাওয়ান কুচিতা এবং ব্র্যাক এডুকেশন প্রোগ্রামের পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগ এই দোতলা শিক্ষাকেন্দ্রটির নকশা করে। ঘরগুলো যথেষ্ট খোলামেলা। দৈর্ঘ্যে ৩৮. ৬ ফুট এবং প্রস্থে ২৫ ফুট স্থাপনাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে জায়গার সর্বোত্তম ব্যবহার হয়। প্রতি তলায় ৪০ জন করে শিশু একসঙ্গে শিক্ষালাভ করতে পারবে। ব্র্যাকের অন্যান্য লার্নিং সেন্টারের মতো এখানেও তিন শিফটে কার্যক্রম চলবে। ঘরটির কাঠামো অস্থায়ী, তৈরি প্রয়োজনে এটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যাবে। বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা সংক্রান্ত রূপকল্প বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করবে এই শিক্ষাকেন্দ্রটি। এখানে শিশুরা প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা এবং জীবনদক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষা লাভ করতে পারবে। আনন্দময় পরিবেশে তারা যে শিক্ষা গ্রহণ করবে তা তাদের ভাষা ও জাতিগত সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম, এনডিসি জানান,‘এখানে রোহিঙ্গা শিশুদের বার্মিজভাষাসহ ইংরেজি ও গণিত শেখানো হবে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নেসার আহমেদ ব্র্যাকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সরকারের উন্নয়নের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ব্র্যাক সহযোগী হিসেবে থাকছে।’

ইউএনএইচসিআরের বার্নাদেত কাস্টেল-হলিংসওয়ার্থ বলেন, ‘এটি একটি সহযোগিতামূলক ও ফলপ্রসূ অংশীদারত্ব। আমরা এরকম কাজ আরও করতে চাই।’

ব্র্যাক এডুকেশন প্রোগ্রামের পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিটি শিশুর মাঝেই থাকে বড় স্বপ্ন ও সম্ভাবনা। এটি পূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখে শিক্ষা। অল্প জায়গায় বেশি শিশুকে শিক্ষা সহায়তা দিতে ব্র্যাক এই উদ্যোগ নিয়েছে।’

ইউনিসেফের শিক্ষা বিষয়ক প্রধান পাওয়ান কুচিতা ব্র্যাকের এই ব্যতিক্রমী ও নতুন ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরা এই প্রয়াসের সাফল্য কামনা করি।’

শিক্ষাকেন্দ্রটি সপ্তাহে ছয়দিন চলবে। নিচতলায় প্রাক-প্রাথমিক ও ওপরতলায় প্রাথমিক শিক্ষার পাঠদান চলবে। বর্তমানে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫ লাখ শিশু অবস্থান করছে। এদের মধ্যে মাত্র ৩১ শতাংশ ব্র্যাকসহ বিভিন্ন সংস্থার শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় এসেছে। বর্তমানে ব্র্যাক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৩১৭টি অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালনা করছে। এসব কেন্দ্রে ৩১ হাজারের বেশি শিশু নিবন্ধিত হয়েছে। তিন শিফটে পরিচালিত কেন্দ্রগুলোতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পাঠ, সাক্ষরতা ও গণনা শিক্ষা, জীবনরক্ষার জন্য তথ্য, জীবনদক্ষতা ও মনোসামাজিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা