রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সংলাপ ও উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যূত ও বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় চলমান আন্তর্জাতিক সংলাপ ও উদ্যোগকে আরও জোরদার করতে হবে। বিশেষতঃ পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসতে হবে।

রোহিঙ্গা সঙ্কটে পরিচালিত মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের এক বছর পেরোনোর পর, গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান ব্র্যাক কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, সেখানে সবচেয়ে বড় সহায়তা কার্যক্রম চালাচ্ছে ব্র্যাক। আজ রবিবার (৯ই সেপ্টেম্বর) সকালে, রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এই অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ডা. মোহাম্মাদ মুসা, ঊর্ধ্বতন পরিচালক আসিফ সালেহ সহ ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞাপনী সংস্থা ওগিলভি কর্তৃক নির্মিত “হ্যাশট্যাগ স্পেস অন আর্থ” (#SpaceOnEarth) শীর্ষক একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়। ব্র্যাকের সহায়তায় ও টেক্সেল ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় নির্মিত এই ভিডিওচিত্রে রোহিঙ্গা শিশুদের ভাষ্যে তাদের নির্মম অভিজ্ঞতার বর্ণনা উঠে আসে। তুলে ধরা হয় তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা। এই অনুষ্ঠানে, রোহিঙ্গা শিশুদের দুরবস্থা কাটিয়ে নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে “হ্যাশট্যাগ স্পেস অন আর্থ” (#SpaceOnEarth) নামে একটি কমিউনিকেশন ক্যাম্পেইনেরও সূচনা করে ব্র্যাক। বিশ্বব্যাপী সচেতনতা ও তহবিল গঠনের লক্ষ্যে এটি কাজ করবে।

আয়োজকরা জানান, যে কোনো সঙ্কটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয় নারী ও শিশুরা। পরিবারের দুঃসময়ে শিশুরা বড়দের মতো দায়িত্বের বোঝা কাঁধে নিতে বাধ্য হয়। ভিডিওচিত্রটিতে শিশুদের চোখ দিয়ে এই নির্মম পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ববাসীর কাছে তাদের জিজ্ঞাসা এই বিশাল পৃথিবীতে তারা কি একটুখানি নিরাপদ জায়গা পাবে না, যাকে তারা ‘নিজের বাড়ি’ বলতে পারবে ? (ভিডিওটি দেখা যাবে এই লিঙ্কে - https://bit.ly/2wOP93f )

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ডা. মোহাম্মাদ মুসা বলেন, শিশুরা বড়দের মত আচরণ করছে। এই ছোট্ট জীবনে তারা এত বেশি নিষ্ঠুরতার সাক্ষী হয়েছে যে, তারা কাঁদতেও ভুলে গেছে। তাদের গোটা শৈশবটাই যেন হারিয়ে গেছে। ‘কিন্তু আমরা এটা হতে দিতে পারি না। শিশুদের অর্থবহ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সারা বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে।’

অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত এক বছরে ব্র্যাকের কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরেন সংস্থাটির পরিচালক ড. আকরামুল ইসলাম। রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে গত এক বছর ব্র্যাকের কাজের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই সরকারের সহযোগী হিসেবে ব্র্যাক জরুরি মানবিক সহায়তা দিয়েছে। পরববর্তীতে স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কৃষিতে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ পর্যন্ত ৪৫ হাজারেরও বেশি শিশু ব্র্যাকের ‘শিশুবান্ধব কেন্দ্রে’ নিবন্ধিত হয়েছে। ১১ লাখের বেশি মানুষ ব্র্যাকের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা পেয়েছেন। ব্র্যাকের তৈরি ঘরগুলোতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া টেকনাফ ও উখিয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে শিক্ষা, জীবনদক্ষতা, আয়মূলক কর্মকা- এবং জরুরি সহায়তা প্রদান করছে।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা