গণপরিবহনে ৯৪ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার

আজ মঙ্গলবার (৬ই মার্চ, ২০১৮) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ব্র্যাক পরিচালিত ‘নারীর জন্য যৌন হয়রানি ও দুর্ঘটনামুক্ত সড়ক’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ সাদ আন্দালিব।

ব্র্যাকের গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন

দেশে গণপরিবহনে যাতায়াতকালে ৯৪ শতাংশ নারী কোনো না কোনো সময় মৌখিক, শারীরিক এবং অন্যান্যভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তবে বিস্ময়কর হচ্ছে, ৪১ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের দ্বারাই নারীরা বেশি যৌন হয়রানির শিকার হন। এই হার ৬৬ শতাংশ। দেশে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ না থাকা, বাসে অতিরিক্ত ভিড়, যানবাহনে পর্যাপ্ত আলো না থাকা, তদারকির অভাব (সিসি ক্যামেরার অভাব) ইত্যাদি বিষয়গুলো নারীদের যৌন হয়রানির মূল কারণ।

আজ মঙ্গলবার (৬ই মার্চ, ২০১৮) জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্র্যাক পরিচালিত ‘নারীর জন্য যৌন হয়রানি ও দুর্ঘটনামুক্ত সড়ক’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের জেন্ডার, জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির সমন্বয়কারী হাসনে আরা বেগম ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গর্ভনেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)-এর রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট কবিতা চৌধুরী।

৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে নারীদের নিরাপত্তাকে কিভাবে আরও জোরদার করা যায় তার সুপারিশসমূহ তুলে ধরতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গবেষণাটিতে সহযোগিতা করেছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। এটি পরিচালনা করেছেন অধ্যাপক সৈয়দ সাদ আন্দালিব, অধ্যাপক সিমিন মাহমুদ, ফাহমিদা সাদিয়া রহমান এবং কবিতা চৌধুরী।

এতে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ সাদ আন্দালিব, ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হোসেইন, ব্র্যাকের জেন্ডার, জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির প্রধান হাবিবুর রহমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সঞ্চালনা করেন ব্র্যাকের জেন্ডার, জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির সমন্বয়কারী নিশাত সুলতানা।

সূচনা বক্তব্যে আহমেদ নাজমুল হোসেইন বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতার অংশ হিসেবে আমরা গাজীপুর, টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেপাশের ১০০ টি স্কুলে কাজ শুরু করেছি। এসব স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা ও যৌন হয়রানি সম্পর্কে তথ্য জানানো ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাস গবেষণাকর্মটি পরিচালিত হয়। এতে সংখ্যাগত ও গুণগত ভিত্তিতে ৪১৫ জন নারী অংশগ্রহণ করেন। এতে মূলত আলোকপাত করা হয়েছে নগর (urban), উপনগর (peri-urban) এবং গ্রামাঞ্চল (rural) এই তিন অঞ্চলের নিম্ন ও নিম্নমধ্য আয়ের পরিবারের নারীদের সড়ক ও গণপরিবহন ব্যবহারের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার ওপর। জরিপটি পরিচালনা করা হয় ঢাকা, গাজীপুর ও সাভারের বিরুলিয়া এলাকায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গণপরিবহন ব্যবহারকারী উত্তরদাতাদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা ১৯-২৫ বছর বয়সী পুরুষদের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। প্রায় ৫৯ শতাংশ উত্তরদাতা ২৬-৪০ বছর বয়সী পুরুষদের উত্যক্তকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। শারীরিকভাবে যৌন হয়রানির মধ্যে রয়েছে ইচ্ছাকৃত স্পর্শ করা বা চিমটি কাটা, কাছ ঘেঁষে দাঁড়ানো বা আস্তে ধাক্কা দেওয়া, নারীদের চুল স্পর্শ করা বা কাঁধে হাত রাখা ইত্যাদি। ঘটনার শিকার হলে মেয়েরা কী পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন?’ এই প্রশ্নের উত্তরে গবেষণার জরিপে ৮১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন তাঁরা চুপ করে থাকেন এবং ৭৯ শতাংশ বলেছেন তাঁরা আক্রান্ত হওয়ার স্থান থেকে সরে যান।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক সাদ আন্দালিব গবেষণা সংক্রান্ত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

সমাপনী বক্তব্যে হাবিবুর রহমান বলেন, এই অনুষ্ঠানে যেসব প্রশ্ন ও সুপারিশ উঠে এসেছে সেগুলোকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। ভবিষ্যৎ কর্মকান্ড ও বড় পরিসরে গবেষণাকর্ম পরিচালনা করার সময় আমরা অবশ্যই এসব বিবেচনায় নেব।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নারীদের শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেলেও কর্মক্ষেত্রে এখনও তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাই গবেষণার সুপারিশের ভিত্তিতে তারা এ ব্যাপারে জনসচেতনতার পাশাপাশি আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের ওপর জোর দাবি জানান।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা