বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির বিশেষ উদ্যোগ

কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে দুই মাস ব্যাপী ব্যাতিক্রমী ক্যাম্পেইন শুরু

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে কমিউিনিটি রেডিওর মাধ্যমে চলতি নভেম্বর মাস থেকে শুরু হচ্ছে বিশেষ ব্যাতিক্রমী ক্যাম্পেইন। দুই মাস ব্যাপী এই ক্যাম্পেইন চলবে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। দেশের ১৭টি কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ বিষয়ে ১১টি ইস্যুর ওপরে স্থানীয় ভাষায় ১৩ টি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান প্রচার করবে। স্থানীয় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রতি শনিবার ও বুধবার এসব অনুষ্ঠান সম্প্রচার হবে।

আজ বুধবার (১৫ নভেম্বর, ২০১৭) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে ‘বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্টান উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেন। সভাপ্রধান হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি, সামাজিক ক্ষমতায়ন এবং সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালক আন্না মিনজ্। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ও বাংলাদেশ কমিউনিটি রেডিও এসোসিয়েশন (বিসিআরএ)-এর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের জেন্ডার, জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটির কর্মসূচি সমন্বয়ক নিশাত সুলতানা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বাল্যবিয়ের কারণে অনেক মেয়ে এবার জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। তাই শুধু আইন প্রণয়ন করে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি দরকার সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা। কমিউনিটি রেডিও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ব্র্যাকের সঙ্গে এখন কমিউনিটি রেডিওর সম্পৃক্ততার কারণে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মকান্ড আরও বৃদ্ধি পাবে। কারণ ব্র্যাকের সাংগঠনিক ভিত্তি অনেক বড়।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে প্রসারিত ও জনপ্রিয়তা বিবেচনায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩২ টি কমিউনিটি রেডিওর অনুমোদন দিলেও ইতমধ্যে ১৭ টি সম্প্রচারে আছে। বিটিআরসির অনুমোদন পেতে বিলম্ব হওয়া ও টান্সমিশনের জটিলতার কারণে ১৫টি কমিউনিটি রেডিও এখনও সম্প্রচারে আসতে পারেনি। আশা করছি, এসব জটিলতা কাটিয়ে শিগগিরই এগুলো আনুষ্ঠানিক সম্প্রচারে আসবে।

আন্না মিনজ্ বলেন, বাল্য বিয়ের মতো একটা ‘সাধারণ এজেন্ডায়’ ১৭ টি কমিউিনিটি রেডিও একযোগে কাজ করবে। এটা আমাদের দেশে একটা ‘উদাহরণ’ হিসেবে থাকবে।

মূল প্রবন্ধে নিশাত সুলতানা বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাল্যবিাহ একটি বড় অন্তরায়। বাল্যবিবাহের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কন্যাশিশুরা। তাই বাল্যবিবাহে প্রতিরোধে চাই সামাজিক সচেতনতা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে যেসব বিষয় সম্প্রচার করা হবে সেগুলো হলো: বাল্যবিবাহ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বাবার ইতিবাচক ভূমিকা, শিক্ষক ও সামাজিক নেতাদের ভূমিকা, কমিউনিটির সম্পৃক্ততা, স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা, সামাজিক গণমাধ্যমের ভূমিকা, এনজিওর ভূমিকা, ছেলেদের সম্পৃক্তকরণ, যৌন হয়রানি এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ভালো শিখন তুলে ধরা। এর পাশাপাশি এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। দেশের চট্টগ্রাম, মৌলভী বাজার, কক্সবাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, কুড়িগ্রামসহ মোট ১৭টি স্থানে স্থাপিত কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে একযোগে এই কার্যক্রম পরিচালনা হবে।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের প্রায় ৫২ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয় ১৮ বছর বয়স পার হওয়ার আগেই। বাল্যবিবাহ প্রবণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম এবং বিশ্বে ৫ম। এতে মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাঁধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নে বড় অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত। গ্রামীন পর্যায়ে এ চিত্র আরও ভয়াবহ। এ প্রেক্ষাপটে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ভাষায় ব্যবহারের মাধ্যমে নির্মিত এ অনুষ্ঠান দ্রুত ও সহজে গ্রামীণ জনসাধারণের কাছে পৌঁছে যাওয়ার ফলে নারী নির্যাতন প্রতিরোধেও এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বক্তারা জানান, অনুষ্ঠানের ম্যাগাজিন নির্মাণ ও প্রচার, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, প্রমো ও প্রচারসহ সংশ্লিষ্ট সকল কারিগরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি ও সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি এবং বিসিআরএর মাধ্যমে সমন্বিতভাবে।

বাংলাদেশ কমিউনিটি রেডিও এসোসিয়েশন (বিসিআরএ)-এর মহাসচিব সৈয়দ তারিকুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আরডিআরএস-এর যোগাযোগ সমন্বয়কারী সাবরিনা শারমিন, ডিডব্লিও একাডেমির কনস্যালট্যান্ট লুৎফা আহমেদ প্রমুখ।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা