দেশে ভূমিবিরোধ সংক্রান্ত জটিলতা বাড়ছে

২৮ জানুয়ারি, ২০১৭

আইনি জটিলতা ও সামাজিক সঙ্কটই মূল কারণ
ব্র্যাকের আয়োজনে গোলটেবিল বৈঠকে গবেষণার তথ্য প্রকাশ

 

আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক আয়োজিত গোলটেবিল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

দেশের জনগোষ্ঠীদের মধ্যে ভূমি বিরোধজনিত সমস্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ৩৬০ জন পরিবারের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা জরিপে দেখা যায়, তাদের ৪১ শতাংশ পরিবারই এ সমস্যায় আক্রান্ত। আবার তাদের মধ্যেই ৫২ শতাংশই ভূমির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ। এরপরেই রয়েছে উত্তরাধিকার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ। এই হার ৪১ শতাংশ। মূলত: ভূমি আইন নিয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকা, আইনি জটিলতা ও সামাজিক সঙ্কটের কারণে এ বিরোধ দেখা দিচ্ছে।

আজ শনিবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থাপিত এক গবেষণা স্টাডিতে এ তথ্য তুলে ধরেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। ‘সম্পত্তি অধিকারের সুযোগ ও সম্পত্তির অধিকার সুরক্ষা প্রকল্পের প্রভাব’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। গোলটেবিল আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল সরকারের ভূমি অধিকার ও ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাইলেজশনের উদ্যোগের সাথে ব্র্যাকের কাজ করার সম্ভাবনা তৈরি করা।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ‘সম্পত্তি অধিকারে মাধ্যমে আইনি ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ’ শীর্ষক গবেষণা নিবন্ধের বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন, বিরোধ থাকলেও এর অধিকাংশই সমাধানের বাইরে থেকে যাচ্ছে। কারণ, এসব পরিবারের বেশিরভাগই মামলা বা আইনি সংক্রান্ত জটিলতায় যেতে চায় না।

রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা-এই ছয়টি জেলায় গবেষণা জরিপ পরিচালিত হয়। গবেষণা স্টাডিটি শুরু হয় ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, শেষ হয় একই বছরের ডিসেম্বর মাসে।

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেছবাহ উল আলম। এছাড়া ‘সম্পত্তি অধিকার সুরক্ষা উদ্যোগ ও এর প্রভাব’ শীর্ষক অপর একটি নিবন্ধ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. ফেরদৌস জাহান। অনুষ্ঠানের শুরুতে সম্পত্তি অধিকার সুরক্ষা বিষয়ে একটি পর্যালোচনা তুলে ধরেন ব্র্যাকের মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচির প্রধান সাজেদা ফারিসা কবির। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জের পরিচালক কেএএম মোর্শেদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেছবাহ উল আলম বলেন, প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষায় সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরো আধুনিকায়ন করতে শুরু করেছে। এই লক্ষ্যে ভূমি সম্পর্কিত প্রায় সকল খাত ডিজিটালাইজড হচ্ছে। এর ফলে কাজের ক্ষেত্রে আরো স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসবে।

বৈঠকে ভূমি অধিকারের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ উঠে আসে সেগুলো হলো: স্থানীয় প্রশাসনিক কাজে দালালদের দৌরাত্ম, ভূমির অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতা, শিক্ষিত হলেও ভূমি আইন ও উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে অনেকের পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকা, মামলার দীর্ঘসূত্রিতা ও এ কারণে মামলা না করার মনোভাব, ভূমি জরিপে নানা জটিলতা, ইত্যাদি। অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষা ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনতে ব্র্যাকের ভূমি উদ্যোক্তাদেরকে এই কাজে আরো বেশি সম্পৃক্ত, সরকারি সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা সহজতর করা এবং সরকারের সঙ্গে ব্র্যাকসহ অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যৌথভাবে কাজ করার তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক ফায়েকুজ্জামান চৌধুরি, মুন্সিগঞ্জের সহকারি জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফজলে আজিম, ঝিনাইদহের সহকারি ভূমি কমিশনার মো. ওসমান গনি, এ টু আই প্রজেক্টের ডোমেইন স্পেশালিস্ট একেএম এনামুল হক, ব্র্যাকের মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার মজিবর রহমান প্রমূখ।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা