সরকারি সহায়তা নিশ্চিতকরণে দ্রুত ভোটার আইডি কার্ডের ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ

৩০ জুন ২০১৬। বান্দরবানের থানচি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর অধিবাসীদের খাদ্যস্বল্পতা মোকাবেলায় দীর্ঘস্থায়ী সমাধান চেয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। আক্রান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে যাদের ভোটার আইডি কার্ড নেই তাদের দ্রুত কার্ডের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

গত এক মাসে দুই দফায় ১০ দিন ব্র্যাকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির পরিচালকসহ ১৬ জন কর্মকর্তার থানচির বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করেন। তারই অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে বিদ্যমান পরিস্থিতির উন্নয়নে একটি সুপারিশমালা তুলে ধরেন ব্র্যাকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির পরিচালক গওহার নঈম ওয়ারা। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জ, টেকনোলজি, এবং পার্টনারশিপ স্ট্রেংদেনিং ইউনিটের পরিচালক কেএএম মোর্শেদ, থানচির স্থানীয় কমিউনিটি নেতা পিয়াচ্যং ¤্রাে। স্থানীয় প্রতিনিধির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খামলাই ¤্রাে, বান্দরবানের স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা গ্রাউস-এর প্রতিনিধি অপুল ত্রিপুরা, চিন্ময় মুরুং, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী রাজুময় তঞ্চংগ্যা।

সুপারিশমালার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলÑসরকারি চাল সহায়তার পাশাপাশি নগদ অর্থায়ন এবং চাল বিতরণের স্থান ও সময় নির্দিষ্টকরণ, অধিবাসীদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা, পাহাড়িদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের জন্য স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ম্যালেরিয়া রোগীদের জন্য সহজলভ্য চিকিৎসা ও রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা।

সম্মেলনে জানানো হয়, থানচির সমস্যাগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে ব্র্যাক। প্রাথমিকভাবে জরিপ করে ১০০০ পরিবারকে অর্থসাহায্য প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত আক্রান্ত এলাকার ২০০ পরিবারকে ২০০০ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে যাতে তাঁরা খাদ্য, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সংগ্রহ করতে পারেন। 

গওহার নঈম ওয়ারা সরেজমিন পরিদর্শনের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের হিসাবমতে, থানচি উপজেলায় খাদ্যস্বল্পতায় ভুগছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। উপজেলার তিন্দু, রেমাক্রি এবং থানচি সদর ইউনিয়নভুক্ত সীমান্তবর্তী প্রায় ১১টি দুর্গম গ্রামের অধিবাসীরা বেশি সমস্যায় আছেন। এলাকাগুলোর ছয়টি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ¤্রাে, খুমি, ত্রিপুরা, খিয়াং, বমরাই সবচেয়ে বেশি খাদ্যস্বল্পতায় ভুগছেন। 

তিনি বলেন, আমরা স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্তরে কথা বলে জেনেছি খাদ্য সংকটের মূল কারণ হচ্ছে প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক এবং প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতা। বিশেষত ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাব ও অসময়ে বৃষ্টির কারণে জুম চাষ সফল না হওয়া এবং উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচের কারণে বাজারজাত করতে না পারায় তারা এ সংকটে পড়ে। এর পাশাপাশি সম্প্রতি ম্যালেরিয়ায় প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে চাষবাস বা অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকা- করতে পারছেন না। আবার বিকল্প হিসেবে তারা যে পাহাড়ি বা ‘জংলি আলু’ খেত, তা-ও সেভাবে উৎপাদিত হয় নি।

প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতা হিসেবে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা, সাঙ্গুনদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাতায়াতে সমস্যা সৃষ্টি, ডব্লিউএফপি’র খাদ্যসাহায্য বন্ধ সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকাকে চিহ্নিত করেন। 

পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে কে এ এম মোর্শেদ বলেন, সরকারের চাল বিতরণকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু আক্রান্ত এলাকার অধিকাংশেরই ভোটার আইডি কার্ড না থাকায় তারা চাল পাচ্ছে না। তাদেও মধ্যে দ্রুত কার্ডের ব্যবস্থা করতে সরকারের সঙ্গে ব্র্যাক কাজ করতে আগ্রহী। এই মানবিক অধিকারের বিষয়ে ঈদের পরই আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই।

অনুষ্ঠানে আগত আদিবাসী নেতৃবৃন্দ খাদ্যস্বল্পতা নিরসনে বাজার ব্যবস্থা উন্নয়নের জোরালো দাবি জানান।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা