যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করতে নতুন প্রকল্প শুরু

২৪ নভেম্বর ২০১৪, ঢাকা। মানবাধিকার ও ন্যায্যতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ‘এক্সেলারেটিং এফোর্টস টু প্রিভেন্ট অ্যান্ড রেসপন্ড টু সেক্সুয়াল অ্যান্ড জেন্ডার বেজড ভায়োলেন্স’ প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর ২০১৪)। সকাল ১০ টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সরকার, কোরিয়া আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা (কেওআইসিএ),  ইউএনডিপি ও ব্র্যাক সম্মিলিতভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিকুল ইসলাম। সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ইউএনডিপি-র কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস পাওলিন থেমেসিস, ইউএন রেসিডেন্ট কো-অরডিনেটর এবং ইউএনএফপিএ-র রিপ্রেজেন্টেটিভ মিস আরজেনটিনা মাটাভেল পিচ্ছিন, ব্র্যাকের ভাইস চেয়ারপারসন  ড. মোশতাক রাজা চৌধুরী,  বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত মি. লুইস টেজাদা চাকন, দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি ইউন ইয়ং এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক এবং অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন কর্মসূচির জাতীয় প্রকল্প পরিচালক আনোয়ার বিন কবির।

এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল জাতিসংঘের সঙ্গে সফলভাবে বাস্তবায়িত ‘ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন’ প্রকল্পে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা। আর প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছেÑযারা যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ও উন্নত সেবা নিশ্চিতকরণ এবং সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা। ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ‘ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন’ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের ৭টি বিভাগের একটি করে জেলা নিয়ে মোট ৪৫ টি উপজেলায় এবং ৪২৫ ইউনিয়নে বর্তমান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জেন্ডার ও যৌন হয়রানিভিত্তিক সহিংসতার শিকার ৬০ হাজার ভুক্তভোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইন ডাটাবেজের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। তারা বিভিন্ন ধরনের সহায়তা যেমন-কাউন্সেলিং, আইনগত সহায়তা, পুলিশবাহিনী প্রদত্ত সুরক্ষা এবং চিকিৎসাসহায়তা পাবে। দেড় লক্ষাধিক জনগোষ্ঠী জেন্ডার ও যৌন হয়রানিভিত্তিক সহিংসতা বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানে অন্তর্ভুক্ত হবেন। একইসঙ্গে সচেতন জনগণ নির্যাতন প্রতিরোধে এগিয়ে আসবেন, ভুক্তভোগী/সারভাইভারদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং বাল্যবিবাহ, অবৈধ তালাক বন্ধে একযোগে কাজ করবেন। ৪২৫টি ইউনিয়ন পরিষদের পারিবারিক বিরোধ নিরসন নারী ও শিশু কল্যাণ কমিটি এবং সাতটি জেলা আইনি সহায়তা কমিটির মধ্যে কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের জেন্ডারভূমিকা সম্পর্কে সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গৃহীত হবে এবং সাংবাদিক কর্মশালার আয়োজন করা হবে। এই পাইলট প্রকল্পের প্রস্তুতকৃত শিখন ও সর্বোত্তম অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু নলেজ প্রোডাক্টের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে অ্যাডভোকেসি করার জন্য পলিসির সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করা হবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে এই অনলাইন ডাটাবেজের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত আন্তঃযোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা