উন্নয়নশীল দেশের মেয়েদের ক্ষমতায়নে পাঁচ মিলিয়ন ডলার সহায়তা ঘোষণা


১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ঢাকা। বিভিন্ন দেশে ব্র্যাকের মাধ্যমে কিশোরীদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে পাঁচ মিলিয়ন ডলার সহায়তা করার ঘোষণা করেছে ব্র্যাক ইউএসএ এবং আমেরিকাভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান নোভো ফাউন্ডেশন। এই পাঁচসালা অংশীদারিত্বের সূচনা হবে দক্ষিণ সুদান এবং আফগানিস-ানে। গত সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কেএই ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রত্যন- এলাকার কিশোরীদের টার্গেট করে ২০১৩ - ২০১৮ সাল মেয়াদী এই অংশীদারিত্ব ব্র্যাকের বিদ্যমান শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন কর্মসূচির বিস-ারে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

জাতিসংঘের ২০১১ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ সুদানের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তির হারের চেয়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার বেশি। ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানকার ৬ থেকে ১৭ বছরের ৭০ শতাংশ শিশু কখনো বিদ্যালয়েই যায়নি। আর বিশ্বব্যাংকের হিসেবমতে, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী দক্ষিণ সুদানী নারীদের মধ্যে কখনও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করেছে-এই হার মাত্র চার শতাংশ।

ইউনিসেফের তথ্যমতে, আফগানিস-ানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী মেয়েদের মাত্র ৪০ শতাংশ বিদ্যালয়ে যায়। ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচির বিস-ারে এই পদক্ষেপটি তহবিলের ঘাটতি পূরণ করবে। এটা পৌঁছে যাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী ১ লাখ ২০ হাজার শিশুর কাছে, যার ৮০ শতাংশই মেয়ে।  

নোভো ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কো-চেয়ারপারসন জেনিফার বাফেট বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমাজের একেবারে প্রানি-ক অবস'ানে রয়েছে মেয়েরা, যদিও নিজেদের জীবন ও পারিপার্শ্বিক অবস'াকে পাল্টে দেওয়ার মতো যথেষ্ট সম্ভাবনা তাদের মধ্যে রয়েছে।

নোভো ফাউন্ডেশনের আরেক কো-চেয়ারপারসন পিটার বাফেট বলেন, মেয়েদের ক্ষমতায়নের বিকাশ ঘটানোর ক্ষেত্রে যাদের পূর্ব সাফল্য আছে, তাদের কর্মসূচিতেই বিনিয়োগ করতে জেনিফার এবং আমি অন্যান্য মানবহিতৈষীকে  আহবান করছি।

ব্র্যাক ইউএসএ-র প্রেসিডেন্ট এবং সিইও সুসান ডেভিস বলেন, আমাদের কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বিদ্যালয়ের ভেতরে মেয়েদের শিক্ষাদান করা আর বাইরে বাল্যবিয়ে, অকালমাতৃত্ব এড়িয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা, সর্বোপরি তাদের জীবনে নিজ অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি আরও বলেন, ব্র্যাকের জন্মস'ান বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি যেখানে মেয়েরা নিজেদের জীবনধারা পরিবর্তনের এজেন্ট হয়, সেখানেই তারা সমাজ ও জাতির টেকসই পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

যুবকল্যাণে গৃহীত কোন কোন উদ্যোগ সফল হচ্ছে, আর কোনগুলো হচ্ছে না সেই সব গবেষণাকে আরও এগিয়ে নেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এই নোভো-ব্র্যাক অংশীদারিত্ব। মাস্টারকার্ড ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় উগান্ডার কাম্পালাভিত্তিক ব্র্যাকের স্বতন্ত্র পূর্ব আফ্রিকা গবেষণা ও মূল্যায়ন ইউনিট এই গবেষণাকর্মের নেতৃত্ব দেবে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের ১১ টি দেশে বিভিন্ন দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি পরিচালনা করে সাড়ে তের কোটি মানুষকে সেবার আওতায় এনে ব্র্যাক আজ বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি উন্নয়ন সংস'া। আর মার্কিন ধনকুবের ওয়ারেন বাফেটের অনুদানে প্রতিষ্ঠিত নোভো ফাউন্ডেশন কাজ করে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ, কিশোরীদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা বিস-ার ও স'ানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে।

 

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা