বাংলাদেশের ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে

 গত জুন মাসে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১০ সালের খানাভিত্তিক আয় এবং ব্যয় জরিপের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৫ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ১ কোটি ৩০ লক্ষ লোক দারিদ্র্যের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং এর ফলে সার্বিকভাবে দরিদ্র্যসীমা ৮.৫ শতাংশ কমেছে।

ব্র্যাক ইউএসএ-র পরিচালক বোর্ডের প্রধান এবং নিউইয়র্কের চায়না মেডিকেল বোর্ডের প্রেসিডেন্ট লিঙ্কন চেন বলেন, ‘বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের মানুষের এই অগ্রগতি সত্যিই বিস্বয়কর। এজন্য সর্ববৃহৎ এনজিও ব্র্যাক বড় ধরনের কৃতিত্বের দাবিদার।’

জরিপে দারিদ্র্য সূচকের তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন উল্লেখ করা হয়েছে। মাথাপিছু আয় ও খাদ্যগ্রহণ ৫.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে ২০১০ সালে এদেশের লোকেদের প্রতিদিনের খাদ্যগ্রহণের পরিমাণ ৯৪৭.৮ গ্রাম থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৯৯৯.৯ গ্রামে দাঁড়িয়েছে। সেইসঙ্গে জীবনযাত্রার মানও বৃদ্ধি পেয়েছে। জরিপে নিরাপদ পানি ও বিদ্যুৎপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য লক্ষ করা গেছে। তবে মোবাইল ফোন ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পেয়েছে সবচেয়ে বেশি। ২০০৫ সালে এই হার ছিল ১১.২৯ শতাংশ, ২০১০ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৬৩.৭৪ শতাংশে উপনীত হয়েছে।

জাতীয় স-রে খানাভিত্তিক মাসিক আয় গড়ে ৫৯.৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধির হার গ্রামে ৫৮.২৭ শতাংশ এবং শহর এলাকায় ৫৭.৪৮ শতাংশ। সেইসঙ্গে জাতীয় স-রে খানাভিত্তিক মাসিক ব্যয়ের পরিমাণও ৮২.৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৫ সালের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার গ্রামে ৮০.৭১ শতাংশ এবং শহরে ৮২.০১ শতাংশ।

জরিপের তথ্যানুযায়ী এদেশে শিক্ষাক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। জাতীয় স-রে ৭ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের সাক্ষরতার হার ৫৭.৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৫ সালে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৫১.৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক শাহজাহান আলী মোল্লা বলেন যে, ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন- শহরের ৪ হাজার ৪০০টি এবং গ্রামের ৭ হাজার ৮৪০টি মোট ১২ হাজার ২৪০টি খানায় এই জরিপ করা হয়েছে।
 


আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা